উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে গোপনে জাহাজ থেকে জাহাজে (শিপ-টু-শিপ) তেল স্থানান্তর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ কাজে আকাশ ও নৌ ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ কনভয় ব্যবস্থার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির কাছে পরিচালিত এই কার্যক্রমে এমন একটি কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ব্যবহার করে আসছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল এবং ওমানের সোহার বন্দরসংলগ্ন এলাকায় এই তেল স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্র ও শিপিং ডেটা অনুযায়ী, গত মে মাসের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে অন্তত ১১৬টি জাহাজ অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে একাধিক জাহাজজোড়াকে পাশাপাশি অবস্থান করে তেল স্থানান্তর করতে দেখা গেছে। ১১ জুন এই কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন একসঙ্গে ১৭ জোড়া জাহাজকে তেল স্থানান্তরে অংশ নিতে দেখা যায়।
সূত্রগুলোর দাবি, ট্যাংকারগুলোকে নির্দিষ্ট মিলনস্থলে জড়ো করা হয় এবং পরে ধাপে ধাপে নিরাপত্তা কনভয়ের মাধ্যমে প্রণালির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয় এবং রাতের বেলায় আলো নিভিয়ে চলাচল করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন ‘ওয়েপয়েন্ট’ ব্যবহার করে এসব জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে।
তবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমুদ্রে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কোনো কার্যক্রমে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি সচল রাখার জন্য এটি একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং আলো নিভিয়ে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
রয়টার্স বলছে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বহু বছর ধরে একই ধরনের শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর কৌশল ব্যবহার করে আসছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের পরিসর অনেক বড়, যার লক্ষ্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং ইরানি হামলার ঝুঁকি কমানো।
মেরিটাইম ঝুঁকি বিশ্লেষক নোয়াম রাইদানের ভাষায়, “এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির জন্য নেওয়া অস্থায়ী ব্যবস্থা।”




Comments