Image description

ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে লেবানন-সংক্রান্ত শর্তগুলো যথাযথভাবে মেনে চলতে ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে এই সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে এক উত্তপ্ত আলোচনা করেছেন। ট্রাম্পের আশঙ্কা, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ইরানের সঙ্গে চলমান এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইসরায়েলপন্থি লবি ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছে। তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড়। আল-জাজিরার সাংবাদিক মাইক হানা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে লেবাননকে আলাদা বিষয় হিসেবে ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমান সমঝোতা স্মারকে এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননে কোনো সামরিক কার্যকলাপ না চালানোর শর্ত মেনে চলতে হবে।

এদিকে, চূড়ান্ত চুক্তিটি কার্যকর হতে আরও দুই মাস সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এটি মেনে নিতে নারাজ। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এখন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সমঝোতা থেকে সরিয়ে নিতে বা চুক্তির বিষয়বস্তু নিজের অনুকূলে আনতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। এজন্য তিনি ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং মার্কিন সিনেটরদের ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না। তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের অবসান কিংবা লেবানন-সংক্রান্ত ধারাসহ চুক্তির কোনো অংশই ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিপরীতমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর