কাতারের বৃহৎ রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। গত মার্চে সংঘটিত হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালুর কাজ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি নিহত ও আহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহতদের সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো নাশকতা বা বৈরী হামলার ঘটনা নয়, বরং একটি শিল্প-দুর্ঘটনা।
মন্ত্রী জানান, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্ল্যান্টটির উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এবং মাত্র দুই দিন আগে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে চালু হওয়ার পরপরই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতাও অক্ষত রয়েছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে দোহার কেন্দ্রস্থল থেকেও কম্পন অনুভূত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার পর জ্বালানি অবকাঠামো পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই দুর্ঘটনা তারই একটি বড় উদাহরণ। বিশেষ করে এলএনজি উৎপাদন ব্যবস্থায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। গ্যাসকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরলে রূপান্তর করার সময় শীতলীকরণ ধাপে সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির অংশ, যা কাতারএনার্জির অন্যতম প্রধান এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। কেন্দ্রটি স্থানীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসও উৎপাদন করে।
উল্লেখ্য, গত মার্চে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের দুটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। কাতারএনার্জির কর্মকর্তাদের মতে, সেই ক্ষতি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সেই সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে অফশোর ও অনশোর স্থাপনা থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।




Comments