Image description

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৫ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলায় শহরের প্রায় ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরে রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুশ হামলা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে চালানো এ হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। অনেক ভবন ধসে পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। সেখানে এখনও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর শুক্রবারকে শোক দিবস ঘোষণা করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।

হামলার পর আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর প্রতিশ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সরবরাহ করা হলে এ ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে অনেক হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক, জ্বালানি ও বিমানবন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় একজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলার জেরে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প খাতকে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব আনা হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি আরও বাড়ছে।

পঞ্চম বছরে গড়ানো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা চলতি বছরে কিয়েভে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।