ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অনশনের ২১তম দিনে এসে দিল্লির একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভারতের বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় সরব হয় দেশটির ছাত্র ও যুব সমাজ। যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তার প্রধান দাবি—শিক্ষা ব্যবস্থায় এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ওয়াংচুককে জোরপূর্বক খাওয়ানোর অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। আদালত তার স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজর রাখতে এবং প্রয়োজনবোধে অনশন ভাঙানোর নির্দেশ দেন।
দিল্লি পুলিশ জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা’ প্রদানের জন্য দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সোনম ওয়াংচুকের অনুসারী ও সিজেপির আন্দোলনকারীরা তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে তারা সংসদ ভবন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন আরও জোরালো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
উল্লেখ্য, গত বছর লাদাখে সহিংসতার সময় ‘উসকানিমূলক মন্তব্যের’ অভিযোগে সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করেছিল বিজেপি সরকার। প্রায় ছয় মাস কারাবাসের পর চলতি বছরের মার্চে তিনি মুক্তি পান। অনশনের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমরণ লড়াই করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সরকার জনগণের এই যন্ত্রণার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments