Image description

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে আজ (২০ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন উত্তেজনা, তেমনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে গাজার অনেক বাসিন্দাই এবার স্পেনের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনিদের মতে, গাজার প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানের কারণেই দেশটির প্রতি তাদের এই সমর্থন।

২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে জোরদার করা।

এছাড়া স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব অবস্থান ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল গাজা আল ইরাদা-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’ তিনি বলেন, যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতেই এই সমর্থন।

তিনি বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান।

তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিশ্বকাপ দেখা এখন সহজ নয়। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই ম্যাচ উপভোগ করতে পারছেন না।

সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির সংকটের কারণে জেনারেটর চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

যুদ্ধের মধ্যেও ফুটবলের পরিবেশ ধরে রাখতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও ম্যাচ খেলতে পারছেন।

বৃহস্পতিবার ও শনিবার সেখানে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের মধ্যে বিশ্বকাপের আদলে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলাগুলোতে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

আল আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।’

৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজম বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

অন্যদিকে, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পাঠানো বার্তার জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা জানাই। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’

ফলে বিশ্বকাপের এই মহারণ শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থানও সমর্থকদের আবেগে প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল।