হাদি হত্যা মামলা: চার্জশিটে বাদীর আপত্তি, মাস্টারমাইন্ডদের আড়ালের অভিযোগ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) ওপর আপত্তি জানিয়ে আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন দিয়েছেন মামলার বাদী। বাদীপক্ষের দাবি, এই তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে বাদীর পক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল জাবের এই শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, একজন ওয়ার্ড কমিশনারের পক্ষে হাদী হত্যার পরিকল্পনা করা সম্ভব না। এখানে দেশি ও বিদেশী চক্র জড়িত রয়েছে। চার্জসিটে মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করা হয়েছে। হাদীকে দিনে দুপুরে হত্যা করা হয়েছে। এখনো শুটার ও পরিকল্পনাকারী আটক হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়সারা একটা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য অন্য কোনও সংস্থাকে দেওয়ার আবেদন জানান তারা। শুনানি শেষে আদালত আদেশ পরে দিবেন বলে জানান।
এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও নরসিংদীতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার মো. ফয়সাল।
প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন চার্জশিটে।
গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে ঢাকার এভারকেয়ার পাঠানো হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।




Comments