Image description

দিনাজপুরের বিরামপুরে দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে পরিচিতি পাওয়া ‘বৃক্ষপ্রেমী’ লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বন বিভাগের করা একটি মামলা নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামলাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের জমিতে গাছ লাগানোর পর বিট কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাছ কেটে ধান চাষের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় লুৎফর রহমানের পাশাপাশি তাঁর কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নম্বর দাগে গিয়ে দেখা যায়, মামলায় যে স্থানকে গাছ কেটে ধান রোপণের জমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে স্থানীয়দের ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামের খেলার মাঠ। সেখানে বন বিভাগের কোনো গাছ ছিল না।

স্থানীয়দের মতে, দুই বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২০টি আমগাছের চারা মাঠের চারপাশে রোপণ করেন লুৎফর রহমান। বর্তমানে সেই গাছগুলোর ছায়ায় বসেই দর্শকরা খেলা উপভোগ করছেন। খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের ট্রাকচালক লুৎফর রহমান অবসর সময়ে নিজ খরচে সড়ক, খোলা জায়গা ও সরকারি স্থানে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। গত এক দশকে তিনি পাঁচ হাজারের বেশি ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়েছেন।

লুৎফর রহমানের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কৃষি অফিস থেকে পাওয়া আমগাছের চারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ফুটবল মাঠের পাশে রোপণ করেন। তিন মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান তাকে অফিসে ডেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা না দেওয়ায় বদলির আগে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়।

লুৎফর রহমান বলেন, যেখানে ধান চাষের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই জমি আশপাশের জমির তুলনায় প্রায় তিন ফুট উঁচু। সেখানে ধান চাষই সম্ভব নয়। তিনি সরকারি জমিতে সরকারি গাছ লাগিয়েছেন, অথচ তাঁকে ও তাঁর দুই ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

ফুটবল টুর্নামেন্টের রেফারি বকুল হোসেন বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই ওই মাঠে খেলা হয়ে আসছে। সেখানে বন বিভাগের কোনো গাছ ছিল না; লুৎফর রহমানই মাঠের পাশে আমগাছ লাগিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ভাষ্য, লুৎফর রহমান গাছ কাটবেন—এমন অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং তিনি সবসময় গাছ সংরক্ষণে কাজ করেন।

খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা জানান, ফুটবল মাঠের পাশে গাছ লাগানোর আগে লুৎফর রহমান তাঁর পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই গাছের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রয়াগপুর বিটের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে আদালতেই কথা হবে। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। আগের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে।