আকারে মুরগির ডিমের চার ভাগের এক ভাগ হলেও পুষ্টির বিচারে কোয়েল পাখির ডিম কিন্তু দাপুটে। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এই খুদে ডিম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজে ঠাসা এই ডিমকে ‘সুপারফুড’ বললেও ভুল হবে না।
কোয়েল পাখির ডিমের পুষ্টিগুণ
গবেষণা অনুযায়ী, মুরগির ডিমের তুলনায় কোয়েল পাখির ডিমে প্রায় তিন গুণ বেশি ভিটামিন বি-১, পাঁচ গুণ বেশি আয়রন ও পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়াম এবং রিবোফ্লাভিন।
কোয়েল পাখির ডিমের যত উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
কোয়েল পাখির ডিমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে টক্সিনমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি:
এই ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলিন ও প্রোটিন থাকে যা মস্তিষ্কের কোষ গঠনে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশুদের মেধা বিকাশে কোয়েল পাখির ডিম দারুণ কার্যকর।
রক্তস্বল্পতা দূর করে:
যাঁরা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য কোয়েল পাখির ডিম ওষুধের মতো কাজ করে। এতে থাকা আয়রন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে।
হার্টের স্বাস্থ্য ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:
এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিদ্যমান ভালো কোলেস্টেরল (HDL) হার্টকে সুরক্ষিত রাখে।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে:
ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ কোয়েল পাখির ডিম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
হজম ও মেটাবলিজম:
শরীরের মেটাবলিক রেট বা বিপাকীয় হার বৃদ্ধিতে কোয়েল পাখির ডিম সহায়ক। এটি হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায় এবং শরীরের শক্তির জোগান দেয়।
কারা দূরে থাকবেন বা সতর্ক হবেন?
উপকারী হলেও সবার জন্য কোয়েল পাখির ডিম ঢালাওভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি:
-
অ্যালার্জি সমস্যা: যাঁদের মুরগির ডিমে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের কোয়েল পাখির ডিমেও অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চুলকানি বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত এড়িয়ে চলুন।
-
কিডনি রোগী: এই ডিমে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও ফসফরাস থাকে। তাই যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডিম খাবেন না।
-
কোলেস্টেরল সমস্যা: যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি বা যারা হৃদরোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন, তারা কুসুমসহ অনেক বেশি ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
-
কাঁচা ডিম পরিহার: কোয়েল পাখির ডিম কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। এতে 'সালমোনেলা' ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সব সময় ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া নিরাপদ।
দৈনিক কয়টি ডিম খাওয়া যাবে?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ৩ থেকে ৫টি কোয়েল পাখির ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, পরিমিতিবোধই হলো সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।ছোট এই ডিমে রয়েছে বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ। আপনার রোজকার নাস্তায় বৈচিত্র্য আনতে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কোয়েল পাখির ডিম হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প। তবে কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে ডায়েটে যোগ করার আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
Comments