একটি পরিবারের প্রথম বা বড় সন্তান হওয়া মানে শুধু বয়সে বড় হওয়া নয় দায়িত্ব, প্রত্যাশা আর নীরবতায়ও বড় হয়ে ওঠা। পরিবারের বড় সন্তানরা অনেক সময় এমন এক অদৃশ্য বোঝা বহন করেন, যা বাইরে থেকে চোখে পড়ে না, আর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগও পায় না। এই মানসিক চাপ ও কষ্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরের বাইরে থেকে যায়।
প্রথম সন্তানকে বাবা-মা প্রায়শই ‘স্বাভাবিকভাবেই’ দায়িত্বশীল বলে ধরে নেন। ছোটদের দেখাশোনা, পড়াশোনায় ভালো ফল, সংসারের বাস্তবতা বোঝা সব কিছুর সূচনা তাদের দিয়েই। অনেক সময় না চাইলেও সবার আগে পরিণত হতে হয় তাদের। কিন্তু এই দ্রুত পরিণত হয়ে ওঠার মানসিক চাপ নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।
বড় সন্তানদের কাছ থেকে নিঃশব্দে অনেক কিছু আশা করা হয়—ভালো রেজাল্ট, ভদ্র আচরণ, ত্যাগ আর সহনশীলতা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সমানুপাতিক আবেগী স্বীকৃতি বা সহানুভূতি প্রায়ই মেলে না। কষ্টের কথা বললে শোনা যায়, ‘তুমি তো বড়, বুঝতে শিখেছ।’
বড় সন্তানরা নিজেরাই কষ্ট লুকোতে শেখে। ছোটদের সামনে শক্ত থাকা, বাবা-মার চিন্তা না বাড়ানো এই মানসিকতা থেকেই তারা চুপ করে থাকে। ধীরে ধীরে পরিবারও ধরে নেয়, সে ঠিক আছে।
পরিবারের বড় সন্তানদেরও দুর্বল হতে দেওয়ার জায়গা থাকা দরকার। তাদের কথাও শোনা প্রয়োজন—তারা সব সময় শক্ত থাকতে পারে না, সব সময় ঠিকও থাকতে হয় না। পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি একটু তাদের নীরবতাকে বুঝতে চেষ্টা করে, তবে এই অদৃশ্য বোঝা হয়তো কিছুটা হলেও হালকা হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments