Image description

যুক্তরাজ্যে মানুষের মধ্যে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (এনএইচএস)। আগামী বছরের শুরু থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার দেওয়া হবে। শুক্রবার(৩ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশি হাঁটার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই স্বীকৃত। তবে এবারই প্রথম ব্যায়ামের বিনিময়ে মানুষকে সরাসরি পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করছে এনএইচএস পারিচালিত একটি প্রকল্প। আগামী বছরের শুরুতে এনএইচএস ইংল্যান্ড ‘ম্যারাথন আ মান্থ’ বা মাসে এক ম্যারাথন নামের একটি চ্যালেঞ্জ চালু করবে। এই প্রকল্পে মানুষকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার আহ্বান জানানো হবে। যারা প্রতিদিন নিয়ম মেনে চলবেন, মাস শেষে তাদের হাঁটার মোট দূরত্ব দাঁড়াবে প্রায় ২৬ মাইল। এটি একটি পূর্ণ ম্যারাথনের সমান দূরত্ব।

জানা যায়, অংশগ্রহণকারীরা স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা অনলাইনে তাদের হাঁটার তথ্য জমা দিতে পারবেন।

চ্যালেঞ্জ সফলভাবে শেষ করতে পারলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ছাড় ও উপহার পাবেন। পুরস্কারের এই ব্যবস্থা মানুষকে নিয়মিত হাঁটতে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনএইচএস।

এ উদ্যোগ অলিম্পিক পদকজয়ী ব্রেন্ডন ফস্টারের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য মানুষকে সহজভাবে শারীরিকভাবে সক্রিয় করে তোলা।

এই উদ্যোগকে দারুণ একটি প্রকল্প মনে করছেন লরেন অ্যান্ড্রু।

অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আমি এতে অংশ নেব। প্রতিদিন অল্প করে হাঁটা রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। জিমে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও হাঁটা তো একদম ফ্রি।’ তবে পুরস্কার হিসেবে কেবল মূল্যছাড়েই তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি যোগ করেন, হাঁটার বিনিময়ে যদি পানীয় বা খাবারের মতো কোনো উপহার পাওয়া যায়, তবে তা মানুষকে আরও আগ্রহী করে তুলবে।

২৫ বছরের কম বয়সীরা এই প্রকল্প নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখিয়েছেন। এক তরুণী জানান, গেমের মতো এই চ্যালেঞ্জ তাকে আরও সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করবে। নিয়মিত হাঁটার ধারাবাহিকতা বা ‘স্ট্রিক’ রক্ষা করার বিষয়টি তাকে ও তার বন্ধুদের দারুণ অনুপ্রাণিত করবে। আবার কেউ কেউ মাসে এমনিতেই ম্যারাথনের সমান পথ হাঁটেন।

জানা যায়, অলিম্পিক পদকজয়ী স্যার ব্রেন্ডন ফস্টারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি সাজানো হচ্ছে। এনএইচএস ইংল্যান্ড তাকে একটি প্রচার পরিকল্পনা তৈরির অনুরোধ জানিয়েছিল। স্যার ব্রেন্ডন বলেন, আমি দৌড়ের জন্য পরিচিত হতে পারি। কিন্তু এই প্রকল্পের লক্ষ্য খুব সহজ। আমরা চাই মানুষ কেবল হাঁটুক। এটি ইংল্যান্ডের ১০ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশ।

এসময় মানুষকে আরও কর্মচঞ্চল করে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে একটি শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত কোনো শারীরিক ব্যায়াম করেন না।

প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচিতে অন্তত এক লাখ মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে উঠলে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ও কমবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/এমআর