ময়মনসিংহে জুলাই আন্দোলনে আহত সাংবাদিকের চিকিৎসায় চরম অবহেলার অভিযোগ
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত সাংবাদিক ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ শফিকুল ইসলাম (দুখু) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম লাঞ্ছনা ও অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর হালুয়াঘাট প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের ৩৮ নম্বর (পেয়িং) ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকেই শফিকুল ইসলাম শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে কোনো বেড না দিয়ে পুরাতন ভবনের ৪র্থ তলার বারান্দায় রাখা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভর্তির সময় ডিউটি ডাক্তার ও সহকারীরা তাঁর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা বারান্দায় পড়ে থাকার পর সাংবাদিক সহকর্মী ও জুলাই যোদ্ধাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের জন্য সংরক্ষিত ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বি-১৪ নম্বর বেড দেওয়া হয়।
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুবার ভয়ংকর রক্তক্ষরণের পর আমি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অথচ হাসপাতালে আসার পর থেকে আমাকে কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর হয়রানির মুখে ফেলা হয়েছে। সংরক্ষিত শয্যা খালি থাকা সত্ত্বেও আমাকে বারান্দায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে কেবল নামমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা আমার জীবন রক্ষায় যথেষ্ট নয়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।”
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন ও সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন আহত এই সাংবাদিক।
এদিকে, একজন সংবাদকর্মী ও জুলাই যোদ্ধার চিকিৎসায় এমন গাফিলতির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারা। তাঁরা বলছেন, সচেতন একজন মানুষের সাথেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে সাধারণ রোগীদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। শফিকুল ইসলাম দুখুর উন্নত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments