Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার রায়ের বাজারে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এই ডিএনএ নমুনা প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর ড. ইউনূস বলেন, “তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। তবে এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে যে সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, শহিদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন এবং নিখোঁজ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় অগ্রগতি।

বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, ইতোমধ্যে ৯টি পরিবার তাদের ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৮ জন শহিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, একজন মা নিয়মিত সিআইডিতে আসতেন এবং রায়ের বাজারের একটি নির্দিষ্ট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করতেন। অলৌকিকভাবে সেই গাছের নিচ থেকেই তার সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ৮ শহিদের নাম:
১. শহিদ সোহেল রানা (৩৮)
২. শহিদ রফিকুল ইসলাম (৫২)
৩. শহিদ আসাদুল্লাহ (৩২)
৪. শহিদ মাহিন মিয়া (৩২)
৫. শহিদ ফয়সাল সরকার (২৬)
৬. শহিদ পারভেজ বেপারী (২৩)
৭. শহিদ কাবিল হোসেন (৫৮)
৮. শহিদ রফিকুল ইসলাম (২৯)

মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চলে গত ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি পরামর্শ দিয়েছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশ নিয়ে যারা নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই