অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বৈষম্য, অবিচার, অনিয়ম বা দুর্নীতি থাকবে না। এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং সংবিধানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করেছি। আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।”
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় প্রথমবারের মতো আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জুলাই সনদে বর্ণিত অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা হবে।”
ভবিষ্যৎ সংসদীয় কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। এর মধ্যে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে, যা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এছাড়া সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন করার বিধান রাখা হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “একজন ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্ট না থাকলে তা কুক্ষিগত করার প্রবণতা তৈরি হয়, যার প্রমাণ আপনারা গত ১৫ বছরে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণসহ জুলাই জাতীয় সনদের ৩০টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।”
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, সচেতনতা তৈরি এবং গণভোটের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments