Image description

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি এবং ওষুধের স্টক রেজিস্টারে গরমিলের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে দুদক দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশার ও উপ-সহকারী পরিচালক আলম মিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে দুদকের ছদ্মবেশী অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি ওষুধ সরবরাহ মোটামুটি চললেও রোগীদের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। হাসপাতালের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী, রোগীদের ১৬৫ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংস (কাঁচা), ২০০ গ্রাম চালের ভাত, ১৩৫ গ্রাম সবজি ও ২৫ গ্রাম ডাল দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে রোগীদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৬ গ্রাম রান্না করা মাংস, ১৬৫ গ্রাম ভাত এবং ১০৫ গ্রাম সবজি। এমনকি তালিকায় থাকলেও রোগীদের পাতে ডাল পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। এছাড়া হাসপাতালে কোনো দৃশ্যমান ডায়েট চার্টও পাওয়া যায়নি।

পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সম্মুখভাগ পরিষ্কার থাকলেও ভেতরের ওয়ার্ড ও টয়লেটগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আউটসোর্সিং জনবল সংকটের কারণে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

ওষুধের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তারা জানান, ইনভেন্টরি ও রেজিস্টার যাচাই করে কিছু ওষুধের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এছাড়া এমএসআর (MSR) প্রকল্পের তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

দুদক দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশার বলেন, "আমরা বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি জব্দ তালিকা তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর