Image description

আসন্ন নির্বাচনে ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে প্রায় ১৪০০টির বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

শরফ উদ্দিন আহমদ জানান, ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টির রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে এবং দিনের মধ্যেই সব প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। কেন্দ্রভিত্তিক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রায় ৮০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি আসনে দুইজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির অধীনেও বিচারিক তদারকি থাকবে।

তিনি আরও জানান, প্রায় সব কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো শতভাগ নজরদারিতে রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে ৯৮ শতাংশের বেশি কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত আনসার সদস্যরা রিয়েল-টাইম চিত্র আপলোড করবেন, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হবে।

ভোট গণনার কক্ষেও সিসিটিভি ব্যবস্থা থাকবে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলেও যেন গণনা কক্ষ এক মুহূর্তের জন্যও অন্ধকার না হয় সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন না উল্লেখ করে শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো চাপ অনুভূত হয়নি। তারা সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন।

সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত প্রায় ৫২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মানবকণ্ঠ/আরআই