চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টিই ঝুঁকিপূর্ণ
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০টির বেশি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে আনোয়ারা উপজেলায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এই আসনের ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্র আনোয়ারা উপজেলায় এবং ২২টি কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত। যাতায়াত ব্যবস্থা, উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব এবং বিগত নির্বাচনের সহিংসতার ইতিহাস পর্যালোচনা করে এসব কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে আনোয়ারার পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলী এসএম আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, হাইলধর বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র এবং দক্ষিণ জুইদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাঙ্গারচর এলাকা অন্যতম।
রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি সাগর উপকূলে এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দুর্গম বেড়িবাঁধ দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে একে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ জুঁইদন্ডী কেন্দ্রে গত নির্বাচনে ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটায় সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়া হাইলধর ইউনিয়নের বশিরুজ্জামান স্মৃতি কেন্দ্রটি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের এলাকায় হওয়ায় রাজনৈতিক আধিপত্যের আশঙ্কায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অন্য এলাকার তুলনায় বেশি সংখ্যক সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ প্রস্তুত থাকবে।”
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments