Image description

বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পরে তার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শুক্রবার সকালে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের মধ্য লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পাথরঘাটা থানার এসআই অসিত কুমার।

গণপিটুনিতে নিহত মো. আবুল বাসার সুজন (৩৮) ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত বজলু মিয়ার ছেলে।

এদিকে জখমের শিকার ওই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়াকে (২৮) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কালু মিয়াকে (২০) মারধর করেন সুজন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ ঘটনাস্থলে গেলে সুজন তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।

এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শরীর থেকে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গুরুতর আহত রিয়াজকে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রিয়াজের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে লেমুয়া গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকশ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সুজনের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে গণপিটুনি দেয় এবং একপর্যায়ে তার চোখ উপড়ে ফেলে। এ সময় তার বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাথরঘাটা থানার এসআই অসিত কুমার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।