মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার তা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। আর বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের শপথ কক্ষে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এর পর সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও তিনিই স্পিকার হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা। বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে আছেন। তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। সংবিধানের ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও এমপিরা শপথ নিতে পারবেন।
১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ না পড়ান, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। এই বাস্তবতায় নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর আগামী মঙ্গলবার শপথ পড়াবেন সিইসি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রীদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।




Comments