কুমিল্লা নগরীতে একটি মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ী) কালী গাছতলা শিব মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। একই সময় পাশের দুটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। শিব মন্দিরে বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী এবং পাশের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন আরও তিন জন। তাদের কুমিল্লা জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরপাড়া শিব মন্দিরে সন্ধ্যায় শনিপূজা করছিলেন পুরোহিতসহ কয়েকজন। এ সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে মুখোশ পরা একজন ব্যাগ হাতে ওই মন্দিরে প্রবেশ করেন। তার পাশে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগটি রাখার একপর্যায়ে মুখোশ পরা ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মন্দিরে থাকা পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর মন্দিরে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় শিব মন্দিরের পার্শ্ববর্তী বৌদ্ধ মন্দির ও ব্র্যাক অফিসের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন আহত হন। এদের মধ্যে দুইজনকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন- ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার সুজত আলীর ছেলে আ. বারেক ও নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। আহত অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
আহত কেশব চক্রবর্তী বলেন, ‘বিস্ফোরণের সময় একটি সাদা বস্তু আমার সামনে এসে পড়ে। প্রথমে ধারণা করেছিলাম গাছ থেকে কিছু পড়েছে, পরে ধোয়া দেখে অন্যরা জানায় এটা বোমা। কে বা কারা কী কারণে এটি করল তা বলতে পারছি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। কী কারণে এবং কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
রাতে ঘটনাস্থলে এসে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্দির থেকে পাওয়া বিস্ফোরণের কিছু আলামত ও একটি ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ টিম এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’




Comments