দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা। আগামী ১৫ মার্চ তাদের এই সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের এই সফর নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। অথচ ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ এখনো সন্তোষজনক নয়। মূল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় ইতিমধ্যে দুই দফায় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। যেখানে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তাদের এমন বিদেশযাত্রা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের মূল কারণসমূহ:
১. সংশ্লিষ্টতার অভাব: আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিস্টেমের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। এছাড়া যে কর্মকর্তারা যাচ্ছেন, তারা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ বা পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত নন।
২. অবসরকালীন সফর: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক এই সফরে যাচ্ছেন, যার চাকরির মেয়াদ আর মাত্র কয়েক মাস বাকি।
৩. সরবরাহকারীর অর্থায়ন: এই সফরের যাবতীয় খরচ বহন করছে ‘ডানহাম-বুশ’ নামক একটি বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এতে সরঞ্জামের মান নিয়ে আপসের ঝুঁকি থাকে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন—অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এই সফরকে সমর্থন করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবসরের পরও এই জ্ঞান কাজে লাগানো সম্ভব।" তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি এটি খতিয়ে দেখবেন।
তিনবার তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে ১৫ মার্চ তাদের এই বিতর্কিত সফরটি শুরু হতে যাচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments