রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
রেল সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ, ডেমু বদলে হচ্ছে কমিউটার
দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অকেজো ডেমু ট্রেনকে কমিউটারে রূপান্তর, নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালুর মতো বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা-পাবনা-ঢাকা ও ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে নতুন দুটি আন্তনগর ট্রেন চালু করা হবে। ভারত থেকে আসা নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে আগামী মে বা জুনের মধ্যেই এই সেবা শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন রেল কর্মকর্তারা।
রেলওয়ের আলোচিত ও অকেজো ডেমু ট্রেনগুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলক দায়িত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রেলের ভাড়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে যাত্রার সময় কমিয়ে ৪ ঘণ্টায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনের ২২৭ কিলোমিটার পথ আগামী চার বছরের মধ্যে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি জনপ্রিয় রুটগুলোতে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, যার পরীক্ষামূলক শুরু হবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে।
রেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপকে (সিএলডব্লিউ) আধুনিকায়ন করে সেখানে কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজন (অ্যাসেম্বলিং) সুবিধা চালু করা হবে। এমনকি রেলের নিজস্ব জমিতে ইঞ্জিন ও বগি তৈরির নতুন কারখানা স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশীদারত্ব উৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার যানজট কমাতে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, "উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয়, তবে বাস্তবায়নের আগে রেলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ডেমু ট্রেনের রূপান্তর যেন টেকসই ও সাশ্রয়ী হয়, সেটি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।"
রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments