ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আজ থেকেই বাংলাদেশে প্রকৃত ও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হলো। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর তিনি তার উদ্বোধনী বক্তব্যে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ আজ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, সেই সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কোনো দিন আপস করেননি।" একই সাথে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তারেক রহমান বলেন, "আমি আজ দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা। এভাবেই আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই।" তিনি আরও বলেন, দেশ গড়ার এই মহান কাজে কোনো বিভেদ বা বিরোধ থাকতে পারে না। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় রীতি অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার জন্য জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।
সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই অধিবেশন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments