Image description

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া জাতীয় দিবসের সংশোধিত তালিকা বহাল রেখেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্টসহ বিতর্কিত আটটি দিবসকে বাদ দিয়েই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের নতুন পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই তালিকায় ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৫ আগস্টের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং আবু সাঈদের শাহাদাতবরণ কেন্দ্রিক ১৬ জুলাইয়ের ‘জুলাই শহীদ দিবস’কে।

বুধবার (১১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পালনের জন্য মোট ৮৯টি দিবসের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

দিবসের শ্রেণিবিভাগ ও গুরুত্ব:

নতুন পরিপত্রে দিবসগুলোকে আগের মতোই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

‘ক’ শ্রেণি (১৭টি): এই শ্রেণির দিবসগুলো জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পালন করা হবে। ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই এই শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে।

‘খ’ শ্রেণি (৩৭টি): ঐতিহ্যগত ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণমূলক এই দিবসগুলোতে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন এবং গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বাজেট সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা।

‘গ’ শ্রেণি (৩৫টি): এগুলো মূলত খাতভিত্তিক প্রতীকী দিবস, যা সীমিত পরিসরে পালিত হবে। এগুলোর জন্য কোনো বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ থাকবে না।

সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পরিপত্রে। এখন থেকে দিবস পালনের নামে অতিরিক্ত সাজসজ্জা বা জাঁকজমকপূর্ণ বিচিত্রানুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। কর্মদিবসে কোনো ধরনের জনসমাবেশ বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। আলোচনা সভা বা সেমিনারগুলো ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ ও আনসার সপ্তাহসহ শিক্ষা ও কৃষি বিষয়ক সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমতি ও নির্দেশনা নিতে হবে। এসব কর্মসূচির মেয়াদ সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের অহেতুক ঢাকায় আনা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকীসহ বেশ কিছু জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সেই সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করল। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় দিবসের তালিকায় বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হলো।

মানবকণ্ঠ/আরআই