Image description

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ২৮টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তথ্য সামনে এনেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের এই স্বল্প সময়ের কর্মকাণ্ডকে ‘অভূতপূর্ব’ ও ‘জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি সরকারের প্রথম ২৮ দিনের এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু করেছে, যার মাধ্যমে হাজারো পরিবার আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সেবকদের (ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত) জন্য সম্মানী প্রদান এবং ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষি খাতে আধুনিকায়নের লক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল খননের মহাপ্রকল্প শুরু হয়েছে যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করবে।

জনগণের সাথে সরকারের দূরত্ব ঘুচাতে ভিভিআইপি প্রটোকল কমানোর সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্যদের (এমপি) বিশেষ সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করার পাশাপাশি সরকারি অফিসগুলোতে কঠোর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং জোরদার করা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

শিক্ষা খাতে লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে মেধা যাচাইয়ের ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু ও দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া রাজপথে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পিংক বাস’ চালুর ঘোষণা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পোস্টে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে বিলাসবহুল প্রকল্প পরিহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালুর বিশেষ পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন।

মাহদী আমিন তাঁর স্ট্যাটাসের শেষে বলেন, “এই ২৮ দিনের পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। তাঁর নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর সেই কালজয়ী উক্তিটি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন— ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

সরকারের এই দ্রুতগতির কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। সাধারণ মানুষও প্রথম মাসেই এমন কর্মতৎপরতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখছেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই