সড়ক ফাঁকা থাকলেও তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ডিজেল সংকটে পণ্ড হতে পারে ঈদ আনন্দ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। স্বস্তির খবর হলো, এখন পর্যন্ত রাজধানীর প্রবেশপথ ও মহাসড়কগুলোতে বড় ধরনের কোনো যানজট নেই। তবে এই আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে তীব্র ‘ডিজেল সংকট’। পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দূরপাল্লার বাসগুলোকে। ফলে মহাসড়ক ফাঁকা থাকলেও তেলের অভাবে বাসের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে রাজধানীর দারুসসালাম ও গাবতলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খালেক পেট্রোল পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাম্পের ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন জানান, সোমবার রাত ১২টার পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। যেসব পাম্প খোলা আছে, সেখানে জ্বালানির জন্য বাসের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একেকটি বাসকে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে তারা সময়মতো বাস ছাড়তে পারছেন না। শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার গোলাম রব্বানী বলেন, “তেল নিতে না পারায় রাত ১১টার বাস ছাড়তে হয়েছে ভোর ৪টায়। পঞ্চগড় বা দূরপাল্লার রুটে একবার ট্যাংক ভর্তি করে গেলে মাঝপথে আবারও তেল নিতে হয়। এভাবে যদি পাম্পে ১০ ঘণ্টা করে বসে থাকতে হয়, তবে ঈদযাত্রায় মহাদুর্ভোগ অনিবার্য।”
এখন পর্যন্ত গাবতলী ও কল্যাণপুর এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা বেশ সুশৃঙ্খল দেখা গেছে। পুলিশ সক্রিয় থাকায় রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং বা লোকাল বাসের জটলা নেই। তবে চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে আজ বিকেল থেকে। গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার পর ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে। পরিবহন ব্যবস্থাপকদের মতে, বিকেলের জনস্রোত শুরু হওয়ার আগেই জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
কল্যাণপুর ও গাবতলীতে যাত্রীদের সুবিধার্থে অনেক কাউন্টারের সামনে সামিয়ানা ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক যাতায়াত সহজ হওয়ায় যাত্রীরা এখন পর্যন্ত স্বস্তিতে আছেন। তবে ফুটপাতগুলোতে হকারদের দখলের কারণে চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, তারা গাবতলী ও কল্যাণপুর পয়েন্টে কড়া নজরদারি রাখছেন। মহাসড়কের ইউটার্নগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিক—উভয় পক্ষই।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments