Image description

রাজধানী ঢাকার বর্জ্য অপসারণ ও পরিবহনে সেকেলে পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি না করে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দেশেই তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘অটোমেশন’ বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে বর্জ্য পরিবহনে আমদানিকৃত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির বদলে দেশে তৈরি সাশ্রয়ী ইলেকট্রনিক থ্রি-হুইলার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমাদের নিজস্ব মেধা ও বুয়েটের প্রযুক্তিগত সহায়তা কাজে লাগিয়ে দেশেই এসব সরঞ্জাম তৈরি করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রী এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিশেষ ঈদ বোনাস প্রদান করেছেন। প্রশাসক আরও জানান, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব রাজস্ব বাড়িয়ে সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বৈঠকে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। মশা নিধনে শুধু ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়, তাই আমরা খাল পরিষ্কারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। আশা করছি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর’ দৃষ্টিভঙ্গি একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা ও সচ্ছতা নিশ্চিত করবে। আধুনিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত মানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই