Image description

সভ্য সমাজে চিড়িয়াখানা থাকা না থাকা নিয়ে ধ্রুপদি বিতর্ক থাকলেও, দেশে দেশে এর টিকে থাকা আজও অম্লান। এর ব্যতিক্রম নয় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানাও। সবুজে ঘেরা প্রায় ১৮৭ একরের এই বিশাল প্রাঙ্গণে বর্তমানে ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী বসবাস করছে।

বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ বাঘ দম্পতি বেলি ও টগরের চার শাবক। এদের মধ্যে তিনটি শাবক জন্মেছে বিরল সাদা রঙ নিয়ে, আর অন্যটির সাদা শরীরে রয়েছে কালো ছোপ। তবে এই শাবকদের সুরক্ষায় বর্তমানে তাদের বাবা টগরকে আলাদা খাঁচায় রাখা হয়েছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বাঘেদের মধ্যে নিজস্ব বাচ্চাদের খেয়ে ফেলার একটি প্রবণতা থাকে। তাই শাবকদের বয়স আট মাস না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের বাবার কাছে দিই না। আট মাস পার হলে শাবকদের অন্য খাঁচায় সরিয়ে নিয়ে বাবা-মাকে পুনরায় এক করা হয়।’

একটু এগোলেই দেখা মেলে সিংহী ডেইজির। গত ডিসেম্বরে খাঁচা থেকে বেরিয়ে পড়া ডেইজি এখন ক্যামেরা দেখলেই হুংকার দিয়ে ওঠে। সম্ভবত আগের কোনো আতঙ্ক থেকে সে দর্শনার্থীদের দেখলে কিছুটা আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এছাড়া চপল হরিণ, পেলিক্যান, জিরাফ ও জেব্রার বিচরণে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে এখানে ৪১টি বয়স্ক প্রাণী রয়েছে। বন্য পরিবেশের চেয়ে চিড়িয়াখানায় এসব প্রাণী সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর বেশি বাঁচে। কিউরেটরের মতে, এসব প্রাণী স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এখানে পরম যত্নে পালিত হবে।

তবে বিশাল এই প্রাণিকুল ও স্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত অরক্ষিত সীমানা প্রাচীর। এই সীমানা কবে নাগাদ সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যা চিড়িয়াখানার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর