Image description

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর অতি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংস্কারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সঠিকভাবে পূর্ণতা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এর অবকাঠামোগত বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী দলের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরবর্তীকালে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হয়।

জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই স্থাপনার বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। এটি চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন একটি স্থাপনা। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর অবকাঠামোতে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে এই স্থানেই হত্যা করা হয়েছে। এটি তার স্মৃতিবিজড়িত এক আবেগঘন জায়গা। এই জাদুঘরের সঙ্গে এ দেশের সাধারণ মানুষের গভীর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতি অম্লান রাখা আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমনিতেই দেশে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সংখ্যা খুব বেশি নেই। তাই যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যেখানে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশ স্বাধীন করার অন্যতম সাহসী সন্তানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেই স্থাপনাটির জাতীয় গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা খুব দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর