Image description

দেশের জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে তীব্র তেল সংকটের জেরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তেলের অপেক্ষায় থাকা বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাতে পাম্পের স্টাফদের মারধর ও স্টেশন ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশি সহায়তার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় অ্যাসোসিয়েশন। তবে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ব্যাংক খুললে পে-অর্ডারের মাধ্যমে তেল উত্তোলন শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। 

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল ও সাধারণ ভোক্তাদের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনেক স্থানে পাম্পের কর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এবং কর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে পাম্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে মালিকদের বলা হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো সময় সারা দেশে ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা তেলের জন্য প্রয়োজনীয় পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল উত্তোলন সম্ভব হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার পর পে-অর্ডারের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিকেলের মধ্যেই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ সরকার জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ঈদের ছুটির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও হোঁচট খেল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর