স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটের কারণে উত্তরণকালীন প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) পাঠানো এই আবেদনে বর্তমান সরকার উল্লেখ করেছে যে, ২০১৮ সালের পর থেকে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিগত সরকারের দেওয়া তথ্যের অসামঞ্জস্যতা, আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকেও আবেদনের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতামা এক চিঠিতে পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই আবেদনটি সফল করতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আবেদন করলে বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাবে। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ আশা করছে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং যৌক্তিক কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ এই সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments