বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি) বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা অবৈধভাবে দেশের বাইরে চলে গেছে। এই পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং আরব আমিরাতের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি ও এনবিআর-এর সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) কাজ করছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আদালতের নির্দেশে এখন পর্যন্ত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ পাচারের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল এবং ৬টির রায় ঘোষণা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচার দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments