Image description

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এবার কঠোর অবস্থানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। নকল প্রতিরোধে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কড়াকড়ি নির্দেশনা, যা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী,পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রতিটি কেন্দ্রের টয়লেট তল্লাশি করতে হবে। কোনো ধরনের নকল বা অনৈতিক উপকরণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরিদর্শকরাই থাকতে পারবেন।অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়েও এসেছে কঠোর বিধিনিষেধ। কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউই এসব ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি কেন্দ্র সচিবকেও ব্যবহার করতে হবে এমন ফোন, যে ফোনে ছবি তোলার সুবিধা নেই।

এই নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে। চিঠিতে মোট ৩১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।

প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায়ও রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে। এতে থাকতে হবে ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। প্রশ্নপত্র সংগ্রহে কোনো ত্রুটি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে কেন্দ্র সচিবকে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহন করতে হবে পুলিশের প্রহরায় এবং ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে। প্যাকেটগুলো সঠিকভাবে সিলমোহর করে তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পরীক্ষা কক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ দিতে হবে এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন পরিদর্শক থাকতে হবে। বসার ক্ষেত্রে ৫ বা ৬ ফুট বেঞ্চে দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন করে বসবে ।
পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণেও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য হ্যান্ড মাইক ব্যবহার এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

নকল প্রতিরোধে কেন্দ্রের প্রবেশপথে বোর্ড অনুমোদিত সতর্কতামূলক পোস্টার লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া প্রবেশপত্রের ভুল সংশোধন, উত্তরপত্র প্যাকেটিং, ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্র আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা, সবকিছুতেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে।