সাইবার আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ, আগের দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি দেখছে এইচআরডব্লিউ
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার সমালোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে Human Rights Watch (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা আগের সরকারের দমনমূলক চর্চার ধারাবাহিকতাই নির্দেশ করে।
২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে ভিন্নমত দমনে আইনের অপব্যবহার বন্ধ করে বিতর্কিত আইনগুলো সংশোধন বা বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এর আগে একটি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পূর্ববর্তী সরকার সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কণ্ঠরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করেছিল বলে উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ।
সংস্থাটির এশিয়া-বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের কারণে গ্রেপ্তার শুরু হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে ঢাকায় এক ব্যক্তির গ্রেপ্তার, ভোলায় সরকারবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে এক নারীকে আটক, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার। এসব ক্ষেত্রে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫’, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, নতুন আইনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন থাকলেও এখনো এমন অনেক অস্পষ্ট বিধান রয়েছে, যা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে দুর্বল বিচারিক তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। এর মধ্যে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমালোচনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
এইচআরডব্লিউ মনে করে, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারগুলো প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা খাতে অনিয়ম এখনো গভীরভাবে রয়ে গেছে। সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আইনের সংস্কার, পুলিশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments