যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় জলপথে মানুষের একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি বৃষ্টির কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। রোববার গভীর রাতে ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এই তথ্য জানিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেহাবশেষটি পিনেলাস কাউন্টির হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়া ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের মধ্যে লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার একই সেতুর ওপর কয়েকটি বড় কালো ট্র্যাশ ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাদের অ্যাপার্টমেন্টে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে রান্নাঘর, বারান্দা এবং সন্দেহভাজনের শোবার ঘরে বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ খুঁজে পেয়েছেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শোবার ঘরের মেঝেতে মানুষের আকৃতির দুটি বড় রক্তের ছোপ পাওয়া গেছে।
চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের পরামর্শ: এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে লোমহর্ষক দিকটি উন্মোচিত হয়েছে সন্দেহভাজন আবুঘারবিয়েহর অনলাইন সার্চ হিস্ট্রি থেকে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগেই আবুঘারবিয়েহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’-র কাছে লাশ গুম করার উপায় জানতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন— ‘কাউকে কালো পলিথিনে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হবে?’ এবং ‘তারা (পুলিশ) কীভাবে তা খুঁজে বের করবে?’ পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিল তিনি আবারও সার্চ করেন— ‘গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা যায়?’।
কৌঁসুলিদের ধারণা, এই পরিকল্পনা অনুযায়ীই লিমনের লাশ ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ব্রিজের ওপর ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং একইভাবে বৃষ্টিকেও গুম করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটির পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments