Image description

দেশে বর্তমানে সততা, সাহস ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষের চরম অভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “সরকারের ভেতরে যত ঢুকছি, ততই আতঙ্কিত হচ্ছি। বিগত বছরগুলোতে তৈরি হওয়া এই জরাজীর্ণ কাঠামো কীভাবে ঠিক করা যাবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে।”

শনিবার (২ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। জীবনের নানা কষ্ট, অপমান ও দুঃখের ধাক্কা তাকে দ্রুত আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ডা. কুদ্দুসের মতো সৎ ও সাহসী মানুষ আজ সমাজে বিরল। আমরা যদি তার আদর্শ ও নৈতিকতা অনুসরণ করতে পারি, তবেই দেশ ও সমাজের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব।”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে সমাজব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বর্তমানে তদবির ছাড়া কোনো কাজ হয় না—এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যা আগে কখনো ছিল না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য জরুরি।

জিয়া পরিষদের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনকে কেবল ‘দোকান’ বা নামসর্বস্ব প্লাটফর্ম বানানো যাবে না। গবেষণা ও মেধাভিত্তিক কাজের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দলীয়করণ বন্ধ করে সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। তবে সরকারের কিছু প্রস্তাবে আমাদের ভিন্নমত রয়েছে, যা ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দেশ আজ বিশাল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এই সংকট কাটাতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যের রাজনীতি এগিয়ে নিতে হবে।”

স্মরণসভায় জিয়া পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা মরহুম ডা. আব্দুল কুদ্দুসের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর