Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঠিকাদারের হামলার শিকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বদলি করা হয়। তবে ঘটনার ১৭ দিন পার হলেও মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার লোকমান হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা জিসি থেকে শিবপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে সড়কটি পরিদর্শনে যান এলজিইডির একটি প্রকৌশলী দল। পরিদর্শনকালে কাজে বাধা দেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে বাঁশ দিয়ে তাড়া করেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ওই দিন রাতেই প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ মামলার পর ঠিকাদারের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও ম্যানেজার ফোরকানকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান অভিযুক্ত লোকমান হোসেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর ‘মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবায়ন করছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন। কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই প্রকৌশলীরা সেখানে তদারকিতে গিয়েছিলেন।

হামলার শিকার কর্মকর্তাকেই উল্টো বদলি করার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর