Image description

রাজবাড়ীর উজানচরের চর কর্ণসোনা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর ফরিদপুরে মা ও শিশু কন্যার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের যতীন বৈদ্যের পাড়ায় হাকিম মোল্লার পুকুরপাড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, পুকুরপাড়ে কুকুরকে মাটি খুঁড়তে দেখে সন্দেহ হয় তাদের। পরে মাটিচাপা অবস্থায় মানুষের পা দেখতে পেয়ে তারা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয় এবং পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানা আক্তার ও তাদের তিন বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। জাহানা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লার মেয়ে। আমজাদ স্থানীয় একটি ইটভাটার শ্রমিক। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জাহানাকে বিয়ে করেন তিনি।

নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার ভাগনে আলা খাঁর চল্লিশার অনুষ্ঠানে যান জাহানা। ফেরার পথে অন্যদের বিদায় জানিয়ে শিশু কন্যা সামিয়াকে নিয়ে ওষুধ কিনতে হামেদ খাঁর বাজারে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল মোল্লা জানান, আমজাদ একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। মাঝে মাঝে জাহানাও সেখানে যেতেন। ইটভাটার উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছিল।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছেই ওই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনায় উজ্জ্বলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।