পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় প্রচলিত ধান ও পাটের পাশাপাশি মেথির মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন স্থানীয় কৃষক জিয়াউর রহমান। উপজেলার কয়ড়াবাড়ি মাঠে তার সবুজে ঘেরা মেথি ক্ষেত এখন স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে কয়ড়াবাড়ি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে মেথি গাছের সবুজ পাতার সমারোহ। কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষির সঙ্গে যুক্ত। লাভজনক ও বিকল্প ফসলের খোঁজে এবার তিনি প্রথমবারের মতো মেথি চাষ করেছেন। ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি বড় ধরনের সাফল্যের আশা করছেন।
কৃষক জিয়া বলেন, “গাছের বৃদ্ধি ও শিষের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রতি বিঘাতে ৪ থেকে ৫ মণ মেথি উৎপাদন হতে পারে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মেথির দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই ফসল থেকে বড় অংকের মুনাফা অর্জন সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, মেথি চাষে খরচ তুলনামূলক কম। বিঘা প্রতি সেচ ও সার বাবদ নামমাত্র ব্যয়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর সফলতা পেলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মেথি আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে এই এলাকায় মূলত ধান ও পাটের আধিপত্য থাকলেও জিয়ার মেথি চাষ দেখে অনেকেই এখন এই ফসলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে কম পরিশ্রমে বেশি দাম পাওয়ায় মেথি এখন লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, আটঘরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া মেথি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ বপন ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে এটি একটি লাভজনক ফসল হতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষক জিয়ার এই উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আটঘরিয়ার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন বৈচিত্র্য আনবে। এই ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল চাষ সম্প্রসারিত হলে পাল্টে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের কৃষকের ভাগ্যের চিত্র।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments