পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কারসাজি করে দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। ফলে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার আগেই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে পোলাওর চাল কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে এখন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৭৩০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু চাল বা মাংস নয়, দাম বেড়েছে মসলা, দুধ ও সেমাইয়েরও। দুই মাস আগে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া আলুবোখারা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। এলাচ কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়ে ৪৬০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০-১৪৫০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকায় ঠেকেছে। এর পাশাপাশি ভোজ্যতেল, গুঁড়োদুধ (ডানো ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা), প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই (৫০ টাকা), পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও ঊর্ধ্বমুখী।
বাজারে আসা মুনতাসির আহমেদ নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রোজা বা কুরবানির ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা যেকোনো অজুহাতে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের নাজেহাল করেন। এসব ক্ষেত্রে তদারকি সংস্থাগুলোও এক প্রকার নিশ্চুপ থাকে।"
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলেই মানুষ এর সুফল পাবে।
তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল জানিয়েছেন, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে তাদের একাধিক টিমের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। বাজারে কোনো অনিয়ম পেলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments