ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ বা স্বাস্থ্য কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার। জুলাই মাস থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এই নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে দেশের পাঁচটি জেলার নাগরিকরা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে জুলাই মাস থেকে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী এবং নোয়াখালী জেলায় এই হেলথ কার্ড কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
হেলথ কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
১. ইউনিক আইডি: প্রতিটি ই-হেলথ কার্ডে রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি থাকবে।
২. ডিজিটাল রেকর্ড: রোগীর সব ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট ও রোগের ইতিহাস ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকবে। কার্ড পাঞ্চ করলেই চিকিৎসকরা পুরনো ইতিহাস জানতে পারবেন।
৩. বিশেষ ছাড়: সরকারি ও সরকার নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন কার্ডধারীরা।
৪. ফ্রি স্বাস্থ্য পরীক্ষা: প্রতিটি নাগরিক বছরে একবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বেসিক বা মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এই হেলথ কার্ড প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ শুরু করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “হেলথ কার্ড আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করছেন। জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, মূলত সাধারণ মানুষের ওপর থেকে চিকিৎসার ব্যয়ভার কমানোই এই কার্ডের মূল লক্ষ্য। মানুষ যেন বড় বড় টেস্টের জন্য উচ্চমূল্য না দিয়ে সহজে সেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে এ ধরনের ডিজিটাল সেবা শুরুতে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সেবার সুফল পৌঁছাতে ব্যাপক প্রচারণা এবং হাসপাতালগুলোকে সুসজ্জিত করার পরামর্শ দেন।
আগামী মাসের শুরু থেকেই এই কার্যক্রমের মাঠ পর্যায়ের কাজ ও ডাটা এন্ট্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments