দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে শতভাগ কমপ্লায়েন্ট পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে (গার্মেন্টসে) প্রতিবছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শতভাগ রফতানিমুখী ও কমপ্লায়েন্ট কারখানার মালিকদের প্রতিবছর এই অডিট করানোর ঝামেলা পোহাতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী পোশাকশিল্পের বিকাশে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম তৈরি পোশাকখাতে কাস্টমস বন্ড প্রথা এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির ভিত্তিতে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এ খাতের পাশাপাশি অন্য সব রফতানিমুখী খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্যও কাস্টমস বন্ড সুবিধা চালুর প্রস্তাব করছি।"
তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পের প্রসার ও ব্যবসায়িক খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করেন। যার মধ্যে রয়েছে-
জেনারেল বন্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি: তৈরি পোশাকশিল্পের মতো শতভাগ রফতানিমুখী লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং টাওয়েল, লিলেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ বর্তমানের ১ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মজুত সীমা প্রত্যাহার: বন্ডেড ওয়্যারহাউসে এককালীন কাঁচামাল মজুতের যে নির্দিষ্ট সীমা ছিল, তা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে কাস্টমস সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি অনেকটাই কমবে। একই সাথে বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে দেশের প্রধান রফতানি খাতগুলোর উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments