Image description

দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তামাক ও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যান। তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় তামাকজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। ফলে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক ও মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেও প্রত্যাশিত ফল অর্জন কঠিন হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তিনি বলেন, “টিকাদান কর্মসূচি সফল না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারত।”

তিনি জানান, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঈদের আগ থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রচারণা, মাইকিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির অন্য শাখায় স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের মৃত্যু শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও দেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/আরআই