জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা এবং তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ’র দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোরআনের অপব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের অভিযোগ তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকারের বারবার হস্তক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপসহ সিনিয়র সংসদ সদস্যদের দফায় দফায় বক্তব্যের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধীদের কৌশলের সমালোচনা করতে গিয়ে কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং যারা অন্যায্য কৌশল খাটায় তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়। সরকারের উন্নয়ন স্বীকার না করে যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের কঠিন আজাবের মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর জবাবে জামায়াত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, পবিত্র কোরআনের আয়াত কোট করে যেভাবে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও বিদ্রুপ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোর সতর্কবাণী সম্বলিত। তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি দলের সংসদ সদস্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন মাওলানা এবং মাদ্রাসার ছাত্র। তিনি সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি তা বাড়িয়ে দেন, আর অকৃতজ্ঞ হলে আজাব আসতে পারে; এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সমীচীন নয়। অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, বাজেটের প্রশংসা না করলে আল্লাহর আজাব আসবে— এমন দলীয় ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার দাবি জানান।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার আশ্বস্ত করেন যে, সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বিতর্কিত অংশটি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং কোনো ভুল বা আপত্তিকর ব্যাখ্যা থাকলে তা এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়া হবে। সবশেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সংসদে বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত সদস্য নিজে একজন আলেম, তাই তিনি ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে এটি বলেননি। তিনি সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments