Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’–এর নাবিকেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে নাবিকদের বহনকারী উড়োজাহাজটি মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যেন দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দেশবাসী আমাদের জন্য যেভাবে দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং মানসিকভাবে পাশে ছিলেন, সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

তিনি জানান, পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ থাকার সময় বহু জাহাজের নাবিক চরম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। অনেক জাহাজে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়, আবার কিছু জাহাজ হামলার মুখে ডুবে যায়।

ক্যাপ্টেনের ভাষ্য, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যেত এবং আশপাশে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটত। সরকার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে তারা জাহাজ ছেড়ে যাননি।

জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ট্যাংকারটির ৪০টি সংরক্ষণ ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে তাদের জাহাজও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে মাইন থাকার কারণে সামান্য ভুলও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে জাহাজটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় আটকা পড়ে।