নির্বাচনী জোট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে তীব্র সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দলটির আরও দুই কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে তাঁরা পৃথকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে গত মাত্র আট দিনে দলটির আটজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ করলেন।
সর্বশেষ পদত্যাগ করা নেতা হলেন মুশফিক উস সালেহীন। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় তিনি দলটির আহ্বায়কের কাছে অনলাইনে পদত্যাগপত্র পাঠান।
এর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে, দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ফেসবুক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগ করেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে ‘পুরোনো ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস’ করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট হওয়ার খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষ শুরু হয়। এই জোটের বিরোধিতা করে মুশফিক ও মুরসালীনসহ ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন।
এছাড়া গত ২৫ ডিসেম্বর নাহিদ ইসলামের বাসায় এক বৈঠকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছিলেন।
৮ দিনে যারা পদত্যাগ করলেন:
১. মীর আরশাদুল হক: তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনে তাকে সমর্থন জানিয়ে পদত্যাগ করেন।
২. ডা. তাসনিম জারা: জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব। গত ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
৩. তাজনূভা জাবীন: যুগ্ম আহ্বায়ক। ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
৪. আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল): কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ৩০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
৫. আজাদ খান ভাসানী: কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী। ৩০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
৬. খালেদ সাইফুল্লাহ: যুগ্ম আহ্বায়ক। ৩১ ডিসেম্বর রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগপত্র পাঠান।
৭. খান মুহাম্মদ মুরসালীন: যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। ১ জানুয়ারি দুপুরে পদত্যাগ করেন।
৮. মুশফিক উস সালেহীন: যুগ্ম সদস্যসচিব। ১ জানুয়ারি বিকেলে পদত্যাগ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের এই বিদ্রোহ এনসিপিকে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক শীর্ষ নেতার দল ত্যাগের ফলে দলটির ভেতরে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments