Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী—পিতা ও পুত্রের সম্পদের খতিয়ানে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের মোট সম্পদ তাঁর বাবার অর্জিত সম্পত্তির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল হান্নান মাসউদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। অন্যদিকে তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক তাঁর আয়কর রিটার্নে মোট ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকার সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন। অর্থাৎ বাবার তুলনায় ছেলের সম্পদ প্রায় ৫ গুণ বেশি।

গত এক বছরে আব্দুল হান্নান মাসউদ ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করেছেন। বিপরীতে তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক কৃষি খাত থেকে ২ লাখ টাকা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা ও ছেলে ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে 'একতারা' প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অন্যদিকে ছেলে আব্দুল হান্নান মাসউদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে 'শাপলা কলি' প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর কাছে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া তাঁর ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে মোট ১৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি আমার মোট সম্পত্তির সঠিক বিবরণ উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’

পিতা ও পুত্রের এই সম্পদের ব্যবধান এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে একই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

মানবকন্ঠ/আরআই