Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার দেবিদ্বার (কুমিল্লা-৪) আসনের নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনের আগেই বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এদিন রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান যাচাই-বাছাই শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী—উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালীন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একজন ঋণখেলাপি এবং তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের তথ্য ও হাইকোর্টের একটি স্থগিতাদেশের বিষয় হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তুমুল তর্কবিতর্ক চলে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজা হাসান জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগ জমা দিতে হবে এবং আপাতত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দু’জনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হলো।

মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে তা নিয়ে আমাদের মনে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একজন প্রার্থী ব্যাংক ডিফল্টার হওয়া সত্ত্বেও এবং তথ্য গোপনের প্রমাণ দেওয়ার পরও তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট আছে, তথ্য গোপন করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। কিন্তু প্রশাসন সেখানে যথাযথ ভূমিকা নিতে পারেনি।"

তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "প্রশাসনের যে দ্বিচারিতামূলক আচরণ, তাতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। সহজ কথায় বলতে গেলে, মনে হচ্ছে প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।"

নির্বাচনী ময়দান ও আইনি লড়াইয়ে চরম উত্তেজনা থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্যে কোনো কমতি দেখা যায়নি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কার্যালয়ের বাইরে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

দেবিদ্বারের এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এখন নির্বাচনি লড়াইয়ের মাঠ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে। তবে প্রশাসনের ওপর এনসিপি প্রার্থীর এই অনাস্থা ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মানকন্ঠ/আরআই