Image description

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “রং পাল্টাচ্ছে, রং পাল্টাচ্ছে। যারা খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে একদিনও কথা বলেনি, তার চিকিৎসার পক্ষে দাঁড়ায়নি, তারাই আজ আবার রং বদলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে কোনো কাজ হবে না।”

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষকদের কল্যাণে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শিক্ষা সংস্কার, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও তারেক রহমানের শিক্ষা জাতীয়করণ ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৬ বছর নির্বাসনে থেকেও বাংলাদেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন। শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবিধান ও একাত্তরের স্মৃতি রক্ষার অঙ্গীকার থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হবেন না।

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজন যে মানুষটিকে ঘিরে, তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। আমরা তার আদর্শের অনুসারী।”

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ফারুক বলেন, দেশের মানুষের জন্য কথা বলার অপরাধে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেছিল। এই হত্যাকাণ্ড আজও দেশের মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি, যার প্রমাণ তার জানাজায় লক্ষ মানুষের উপস্থিতি। তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা অসততার অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি।”

সাবেক এই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন এবং মুসলিম বিশ্বে দেশকে মর্যাদার আসনে দাঁড় করিয়েছেন। তাই মানুষ আজও তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর অনেকে ভেবেছিল বিএনপি আর টিকবে না। কিন্তু আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এরশাদের শাসনামলে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে লক্ষ মানুষের সমর্থনে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন।

নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশকে নতুন করে চক্রান্তে জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সততা ও সাহসিকতায় দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ফারুক অভিযোগ করেন, অতীতে বিদেশীদের ব্যালট দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়েই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয়েছে, যা সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি আমাদের রায় দেয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠন করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব এবং গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করব।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ন পরিষদের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।