Image description

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বনেতারা যেভাবে আমৃত্যু নীতির প্রশ্নে অটল ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রামও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে।”

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আমীর খসরু বলেন, “বেগম জিয়া জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই যখন আপস করেছেন, তিনি এক মুহূর্তের জন্যও মাথা নত করেননি। তিনি গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, তা আজ তারেক রহমানের হাতে। এই মশাল আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

আগামীর রাজনীতি কঠিন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই শেষ হয়ে যাবে না, বরং তা আরও কঠিন হতে পারে। তাই বেগম জিয়ার আদর্শ ধারণ করে আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি চিকিৎসার জন্য দেশ ত্যাগ না করে বলেছিলেন—বাঁচলে এ দেশেই বাঁচব, মরলে এ দেশেই মরব। এই অদম্য দেশপ্রেমই তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।”

অনুষ্ঠানে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।”

একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, “নেতৃত্বের প্রশ্নে বেগম জিয়া ছিলেন জন সি. ম্যাক্সওয়েলের সংজ্ঞার সার্থক উদাহরণ। তিনি কেবল পথ জানতেন না, সেই পথে নিজে হেঁটে অন্যদেরও পথ দেখিয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, ড. সুকোমল বড়ুয়া, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, চমেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানসহ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর